ইলিশ রক্ষার অভিযান চলছিল, এর মধ্যেই কুষ্টিয়ার পদ্মায় কয়েক ঘণ্টা ধরে দুই বাহিনীর গোলাগুলি
পদ্মা নদীর বালুচর দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাকন বাহিনী ও কালু বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা দুইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা – সংলগ্ন পদ্মা নদীতে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলেছে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
গোলাগুলির সময় পদ্মা নদীতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের উদ্যোগে অভিযান চলছিল। অভিযানে নৌ পুলিশসহ জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেটও ছিলেন। গোলাগুলির একটি ভিডিও আজ বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গতকাল বেলা দুইটার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মহানগর ট্যাগ এলাকার বাসিন্দারা নদীর ভেতর থেকে কয়েক দফা গুলির শব্দ শুনতে পান। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ বাড়তে থাকলে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ সময় কয়েকটি স্পিডবোটকে দ্রুত নদীতে চলাচল করতে দেখা যায়।
বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালাতে যায় সদর উপজেলা প্রশাসনের একটি দল। তারাও গুলির শব্দ শুনতে পায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আক্তার।
মনিরা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নৌকায় উঠতেই গুলির একাধিক শব্দ শুনতে পাই। বিষয়টি তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়। এরপর নিরাপত্তাসহ অভিযান পরিচালনা করা হয়। একটি স্পিডবোট দেখেছি। পাড়ে থাকা আমার গাড়ির চালক তিন থেকে চারটি স্পিডবোট দ্রুত যেতে দেখেছেন। অভিযানে পদ্মা নদীতে এ সময় মাছ ধরার কোনো নৌকা চোখে পড়েনি।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কুষ্টিয়া অংশে পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনায় কাকন বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। অন্যদিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ডিগ্রির চরের কলাবাগানে অবস্থান নেন কালু বাহিনীর সদস্যরা। দুই বাহিনীর সদস্যরা একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এর আগে পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনা কালু বাহিনীর দখলে ছিল। এবার কাকন বাহিনী ওই এলাকার দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় নৌকার মাঝি নয়নের ভাষ্য, কাকন বাহিনী প্রথমে একটি ট্রলারে করে লোকজন নিয়ে এসে গোলাগুলি শুরু করেন। বিকেল চারটার দিকে তাঁদের বহরে আরও দুটি নৌকা যোগ হয়।
গোলাগুলির খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল দাবি করে ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কাকন বাহিনী ও কালু বাহিনীর মধ্যে অনেকক্ষণ ধরে গোলাগুলি হয়েছে। সন্ধ্যায় গুলির শব্দ বন্ধ হয়েছে। এরপর আর কোনো কিছু সেখানে হয়নি।
ওই এলাকা রাজশাহী নৌ পুলিশের আওতাধীন। এ বিষয়ে রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এলাকাটি দুর্গম। তাঁদের জনবলও খুব কম। লক্ষ্মীকুণ্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে মাত্র ১১ জন সদস্য আছেন। তাঁদের মধ্যে ৪ জন মৎস্য অভিযানে ছিলেন। খুব শিগগির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য সদস্যদের নিয়ে বড় পরিসরে অভিযান চালানো হবে।
