লাইনে রোগী, কাউন্টারে ‘ম্যাজিক টোকেন’: মিটফোর্ডে গরিবের ওষুধ নিয়ে চক্রের অভিযোগ

চিকিৎসকের সিলে টোকেন, নার্সের ড্রয়ারে সরকারি ওষুধ আরটিভির অনুসন্ধানে নানা অনিয়মের অভিযোগ

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের জন্য বরাদ্দ বিনামূল্যের সরকারি ওষুধ একটি চক্রের মাধ্যমে অন্যের হাতে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরটিভির ধারাবাহিক অনুসন্ধানে এমন নানা অভিযোগ ও তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওষুধ নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ টোকেনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই ব্যবস্থা। রোগীরা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না। অথচ একই সময়ে হাসপাতালের কিছু নার্স, ব্রাদার, আয়া ও ওয়ার্ডবয় কাউন্টার থেকে ওষুধ সংগ্রহ করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দালালচক্রের সদস্য ও কয়েকজন আনসার সদস্যের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ এসেছে।

চিকিৎসকের সিলে টোকেন

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কথিত ‘ম্যাজিক টোকেন’ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ মেলে না। আর এই টোকেন তৈরি হয় চিকিৎসকের কক্ষের সামনে, ব্যবস্থাপত্রের আড়ালে।

আউটডোরের অর্থোপেডিক বিভাগের একটি কক্ষের সামনে কর্মরত এমএলএসএস রেজাউল, রুবেল ও ইয়াসিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা চিকিৎসকের সিল ব্যবহার করে কথিত পাচারচক্রের সদস্যদের টোকেন সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নার্সের ড্রয়ারে সরকারি ওষুধ, এলাকায় ফার্মেসি

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য বরাদ্দ ওষুধ আত্মসাতের অভিযোগও এসেছে অনুসন্ধানে। প্রতিবেদনে কয়েকজন নার্স ও হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নার্স আসমা আক্তার, সাদ্দাম হোসাইন ও তাঁর স্ত্রী রোকেয়া আক্তার সেতু।

প্রতিবেদনের দাবি, আসমা আক্তারের ড্রয়ারে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ পাওয়া যায়। কেরানীগঞ্জের সোনারবাংলা হাউজিং এলাকায় তাঁর একটি ফার্মেসি ব্যবসা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের সরকারি ওষুধ সেখানে মজুত করা হতে পারে। আরটিভির অনুসন্ধানী দল ছদ্মবেশে ওষুধ কিনতে চাইলে আসমার স্বামী ওষুধ পৌঁছে দেন বলেও দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে আসমা আক্তার কথা বলতে রাজি হননি।

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

নার্সদের কাছ থেকে সরকারি ওষুধ উদ্ধারের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগ পেলে বা তিনি নিজে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

সরকারি হাসপাতালে আসা নিম্নআয়ের মানুষের কাছে একটি ওষুধও অনেক সময় জীবনরক্ষাকারী। সেই ওষুধ রোগীর হাতে না পৌঁছালে তা শুধু ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নয়; জনস্বাস্থ্য ও সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিয়েও বড় প্রশ্ন তোলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *