“উদ্বিগ্ন নই” বলা সহজ, দায় মেটানো কঠিন: হাম-ডেঙ্গুর মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিশ্চিন্ত সুর
দাবি আছে, তথ্য নেই: একাধিক রোগের চাপে মন্ত্রীর কাছে জনগণ চায় জবাবদিহি
হাম, ডেঙ্গুসহ কয়েকটি রোগ একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে, এ কথা স্বীকার করেও সরকারকে উদ্বিগ্ন নয় বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এমন সময়ে জনস্বাস্থ্যের অভিভাবকের মুখে নিশ্চিন্ত সুর কতটা স্বস্তি দেয়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দাবি
বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অডিটরিয়ামে জাতীয় পর্যায়ের মুখে খাওয়ার কলেরা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায় সরকারের আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে।
বাস্তবতা
কিন্তু আত্মবিশ্বাস আর প্রস্তুতি এক জিনিস নয়। কোন রোগের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেই চেষ্টা কতদূর এগিয়েছে, মানুষ কীভাবে তার ফল দেখবে, এসব প্রশ্নে মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল নীরব। কলেরা টিকার গুরুত্ব তিনি বলেছেন ঠিকই, তবে হাম ও ডেঙ্গুর প্রসঙ্গ নিজে তুলেও একাধিক রোগ একসঙ্গে সামলানোর পরিকল্পনা খোলাসা করেননি।
জনগণের চাওয়া
একসঙ্গে অনেক রোগের চাপ বাড়লে মানুষ আশ্বাস শুনতে চায় না, দেখতে চায় প্রস্তুতি। চায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি, চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা ও টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত ও স্পষ্ট তথ্য।
শেষ কথা
“সর্বোচ্চ চেষ্টা” কথাটি যতক্ষণ বাস্তব পদক্ষেপের বিবরণ, অগ্রগতির তথ্য ও ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ তা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কমাতে পারবে না। জনস্বাস্থ্য সংকটে আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যের চেয়ে কার্যকর প্রস্তুতির প্রমাণই বেশি জরুরি। উদ্বিগ্ন না হওয়ার অধিকার সরকারের থাকতে পারে, কিন্তু জবাবদিহির দায় থেকে তার মুক্তি নেই।
