ফাঁকা ওষুধের তাক, নীরব মন্ত্রণালয়: সরকারি হাসপাতালের সংকটে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হিসাব চাইছে জনগণ
পিপিআরসি সমীক্ষায় প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা মাত্র প্রায় ২২ শতাংশ; বড় হাসপাতালে পরিস্থিতি আরও করুণ
সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ওষুধ না পাওয়া যে এখনো নিয়মিত বাস্তবতা, তার নতুন প্রমাণ মিলেছে জাগো নিউজে প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে। নিবন্ধে উদ্ধৃত পিপিআরসি সমীক্ষা বলছে, পর্যালোচনা করা ২২টি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা ছিল মাত্র প্রায় ২২ শতাংশ। যে মানুষগুলোর বেসরকারি চিকিৎসার সামর্থ্য নেই, তাঁদের একমাত্র ভরসা সরকারি ব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থা তাঁদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে ওষুধ দিতে পারছে না।
সংখ্যায় সংকটের চেহারা
• তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা মাত্র ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।
• দ্বিতীয় পর্যায়ে এই হার ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
অর্থাৎ যেসব হাসপাতালে সবচেয়ে জটিল রোগীর চিকিৎসা হয়, সেখানেই ওষুধের সংস্থান সবচেয়ে দুর্বল। এই বৈপরীত্য শুধু সরবরাহ কম থাকার কথা বলে না। কোন স্তরে, কোন হাসপাতালে ওষুধ আটকে যাচ্ছে, সেই ব্যবস্থাপনার ত্রুটিও এতে ধরা পড়ে। বড় হাসপাতালে রেফার হওয়া রোগী সেখানেও যদি ওষুধ না পান, তবে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা ঠিক সবচেয়ে সংকটের মুহূর্তেই ছিঁড়ে যায়।
“সরবরাহ আসেনি” বলে পার পাওয়া যায় না
ওষুধ কেনা, মজুত রাখা এবং রোগীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্ব স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের, আর তার নেতৃত্বে আছেন মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোনো ধাপে সমস্যা থাকলে সরবরাহ না আসার অজুহাতে দায় এড়ানো যায় না। সরবরাহ কেন আসেনি, কোথায় আটকাল এবং কে দায়ী, তা খুঁজে বের করাই মন্ত্রণালয়ের কাজ। এসব তথ্য প্রকাশ্যে না এলে মন্ত্রীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
পকেট থেকে ওষুধ কিনছেন রোগী
ঘাটতির বোঝা শেষ পর্যন্ত রোগীর কাঁধেই পড়ে। সরকারি হাসপাতালে ওষুধ না পেলে তাঁকে বাইরে থেকে কিনতে হয়। দরিদ্র পরিবারের জন্য তা কখনো অসম্পূর্ণ চিকিৎসা, কখনো ওষুধের মাত্রা কমিয়ে ফেলা, আবার কখনো চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া। এভাবে প্রশাসনিক ব্যর্থতা সরাসরি মানুষের জীবন ও সুস্থতার অধিকার ছুঁয়ে যায়।
অতীতের দোহাই চলবে না
সমস্যাটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত, নিবন্ধের বিশ্লেষণেও এ কথা আছে। তবে তাতে বর্তমান নেতৃত্বের দায় কমে না। ওষুধের মজুতের হালনাগাদ তথ্য, সরবরাহে বাধার কারণ এবং ঘাটতি কাটানোর সময়সীমা এখনো জানা না গেলে জবাবদিহির প্রশ্ন উঠবেই।
জনগণের কাছে যা প্রকাশ করা জরুরি
• কোন হাসপাতালে কী ওষুধ কতটা আছে, তার হালনাগাদ তালিকা
• কোথায়, কেন সরবরাহ আটকে আছে, তার কারণ
• ঘাটতি কাটানোর সময়সীমা এবং কোন কর্মকর্তা কী দায়িত্বে আছেন, তার হিসাব
ওষুধের তাক ফাঁকা থাকা প্রশাসনিক অবহেলা তো বটেই, তার চেয়েও বড় কথা, এটি জবাবদিহির সংকট। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব এর উত্তর না দিলে প্রশ্নটি তাঁদের দিকেই ফিরে আসবে।
