হাসপাতালের সংকট নাকি কূটনৈতিক ব্যস্ততা?

সাত দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বৈঠক ঘিরে ফলাফল ও অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুলের দিনপঞ্জিতে জায়গা করে নিয়েছে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে একের পর এক সাক্ষাৎ। পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, চীন, থাইল্যান্ড, ডেনমার্ক ও ভারতের প্রতিনিধিরা এখন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা যায়। অথচ সরকারি হাসপাতালের করিডোরে রোগীর ভিড়, শয্যা ও জনবলের সংকট আগের মতোই রয়ে গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিজে দোষের কিছু নয়। টিকা, ওষুধ, চিকিৎসা প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মতো ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগতে পারে। তবু প্রশ্ন উঠছে, এই বৈঠকগুলো থেকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের হাতে কী এসেছে।

বিবৃতি আছে, বিবরণ নেই

বৈঠকগুলোর খবর সাধারণত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও ছবির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু আলোচনায় কোন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে, কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, বা কোনো প্রকল্প এগোচ্ছে কি না, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। কূটনৈতিক সূত্রে জানার বিষয়টিও সহজ নয়, কারণ আলোচ্যসূচি ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সরকারি কাঠামোর সঙ্গে সংযোগ কতটা

মন্ত্রী পর্যায়ের বৈদেশিক যোগাযোগ সাধারণত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে এগোয়, এমনটাই প্রত্যাশিত। এই ক্ষেত্রে সেই সমন্বয় কীভাবে হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। বৈঠকের উদ্যোগ মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসেছে, নাকি সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, সে প্রশ্নেরও সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। দলীয় নির্দেশনার কথা কেউ কেউ বললেও এর সপক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অগ্রাধিকারের হিসাব

সংকটের তালিকাটি দীর্ঘ: জনবলের ঘাটতি, ওষুধ সরবরাহে জটিলতা, চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং রোগীর পকেট থেকে বেড়ে চলা ব্যয়। এসব সমস্যার সমাধান শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর। আবার বিদেশি সহায়তাও এ খাতে অর্থ ও বিশেষজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই কূটনীতি ও দেশীয় প্রশাসনিক কাজ একে অপরের বিপরীতে দাঁড় করানো যায় না, বরং একটি অন্যটির পরিপূরক হওয়ার কথা।

সেই পরিপূরক সম্পর্ক বাস্তবে কতটা দৃশ্যমান, তা দেখাতে পারলেই মন্ত্রীর বৈঠকগুলো নিয়ে সংশয় কাটবে। এ জন্য দরকার প্রতিটি বৈঠকের উদ্দেশ্য, সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতির স্বচ্ছ প্রকাশ। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানার চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *